সোমবার , ১১ এপ্রিল ২০২২ | ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. অলৌকিক
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. আলোচিত
  7. কবিতা
  8. করোনাভাইরাস আপডেট
  9. ক্যাম্পাস
  10. খেলাধুলা
  11. গনমাধ্যম
  12. চাকুরী
  13. জাতীয়
  14. ধর্ম
  15. নারী ও শিশু

শরীয়তপুরে ঘুষের টাকায় কোটিপতি সাবরেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী

প্রতিবেদক
এইচ এম ওবায়দুল হক
এপ্রিল ১১, ২০২২ ১:৩৮ অপরাহ্ণ

মঞ্জুরুল ইসলাম রনি, শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ শরীয়তপুরের জাজিরা সাবরেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী আনোয়ার হোসেন মিল্টনের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও নানা অনিয়ম করে কয়েক কোটি টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার অভিজাত এলাকা বারিধারার জে ব্লকের সাউথ পয়েন্ট স্কুলের সামনের সুভাষ টাওয়ারে তার ফ্ল্যাট ও শরীয়তপুর শহরে পাসপোর্ট অফিসের সামনে তার স্ত্রী নিশি আক্তারের নামে রয়েছে প্লট। এ ছাড়া বে-নামে কয়েক স্থানে তার সম্পদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তাদের মতে, সরকারিভাবে চালানে সাড়ে সাত শতাংশ অর্থ জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তাকে দিতে হয় ১০ থেকে ১২ শতাংশ। তাকে ‘খুশি’ না করে এ অফিসে কোনো দলিল হয় না।

শরীয়তপুর জেলা রেজিস্ট্রার ও জাজিরা উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভার নড়িয়া থানার সামনে বৈশাখীপাড়া এলাকার বাসিন্দা নড়িয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাবেক কেরানী ভূঁইয়া বাড়ির দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেন মিল্টন। তিনি ১৯৯৭ সালে শরীয়তপুর জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে অস্থায়ী কর্মচারী হিসাবে (মাস্টার রোল) যোগ দেন। ২০১০ সালে মোহরার হিসাবে পদোন্নতি পান। ২০১৯ সালে তিনি জাজিরা উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে অফিস সহকারী হিসাবে যোগ দেন।

সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী ও দলিল লেখকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে জানান, প্রতিটি দলিলের ক্ষেত্রে প্রত্যেক গ্রাহককে উৎসে কর ২ শতাংশ, স্ট্যাপ দেড় শতাংশ, রেজিস্ট্রি বাবদ ১ শতাংশ ও স্থানীয় কর হিসাবে ৩ শতাংশ ব্যাংক চালানের মাধ্যমে জমা দিতে হয়। এর বাইরে প্রতিটি দলিলে নগদ এক হাজার থেকে তিন হাজার টাকা, সামান্য ভুলের জন্য আরও বিভিন্ন অঙ্কের টাকা তিনি আদায় করে থাকেন। আর এ টাকা সাবরেজিস্ট্রার, মহরার (২ জন), টিসি (২ জন) ও মিল্টনের মধ্যে ভাগ হয়। অতিরিক্ত অর্থের (ঘুসের টাকার) ৪৫ শতাংশ পান সাবরেজিস্টার, ২৫ ভাগ অফিস সহকারী ও ৩০ ভাগ মহরার পেয়ে থাকেন।

ভুক্তভোগীরা প্রশ্ন করেন, বর্তমানে মিল্টন ১৪ হাজার ৪৭০ টাকা স্কেলে বেতন পান। এ দুমূল্যের বাজারে যেখানে সংসার চালানোই দায়, সেখানে তিনি ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় কীভাবে জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট কেনেন। বিষয়টি তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনা হোক। জাজিরা নাওডোবা এলাকার আলী আজগর বয়াতী বলেন, জাজিরা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারীর কাছে নগদ টাকা দেওয়া ছাড়া কোনো দলিল হয় না। দলিলপ্রতি তাকে ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা দিতে হয়। এক দলিল লেখক (ভেন্ডার) বলেন, জাজিরা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না। কোনো কারণে দিনে দলিল না হলে ঘুষ দিলে রাতে দলিল হয়ে যায়।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন মিল্টন বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা ঠিক নয়। আমি আমার শ্বশুরবাড়ি থেকে সহায়তা পেয়েছি। পাশাপাশি আমার ভাইয়েরা প্রবাসে থাকে, তাদের সহায়তায় আমি এ সব সম্পদ কিনেছি। অফিসের কাজকর্ম নিয়মনীতি মেনেই করি। জাজিরা উপজেলা সাবরেজিস্টার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমার অফিসে কেউ দুর্নীতি করলে আমাকে লিখিতভাবে জানালে আমি ব্যবস্থা নেব। তবে এটা ঠিক কিছু কিছু টাকা নগদ নেওয়ার বিধান রয়েছে। ঘুষের অর্থের ভাগ আপনিও পান বলে অভিযোগ রয়েছে-এ বিষয়ে আপনি কী বলেন? এ কথা শুনে তিনি পরে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে কয়েকদফা চেষ্টা করেও তার সঙ্গে আর দেখা করা বা কথা বলা যায়নি।

সর্বশেষ - আলোচিত

আপনার জন্য নির্বাচিত
Design and Developed by BY AKATONMOY HOST BD