শাকিল আহম্মেদঃ সংসারের লাগামহীন নানা বোঝা টানতে টানতে এখন ক্লান্ত,সময়ের পরিক্রমায় হয়ে পড়েছেন অক্ষম,শক্তিহীন। সেই দিনের উচ্ছল জীবন আজ বয়সের ভারে নুহ্য ক্লান্ত। নেই থাকার মত একটি ভালো ঘর। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে জরাজীর্ণ ভাঙা একটি টিনের চালার নিচে মানবেতর জীবনযাপন।এক কথায় ভালো নেই বৃদ্ধা। সরকারি একটি ঘর পেলেই কিছুটা হলেও ভালো থাকবেন তিনি। তাই জামালপুর জেলা প্রশাসন, সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রশাসন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তদআলহাজ্ব ড়াঃ মুরাদ হাসান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি সরকারি ঘরের জন্য আকুতি জানান এই বৃদ্ধা।

জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করা এই বৃদ্ধা সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের পাটাবুগা গ্রামের বাসিন্দা বিধবা বৃদ্ধা হালিমা বেওয়া। ৮০ বছর বয়সের অসহায় হতদরিদ্র এই বৃদ্ধার থাকার মত নেই একটি ভাল ঘর। পুরনো জরাজীর্ণ একটি ঘরে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে এই বৃদ্ধা হালিমার। সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, প্রায় চল্লিশ বছর আগে দুনিয়া থেকে পরকালে চলে গিয়েছেন স্বামী রইচ উদ্দিন। তার পর থেকে এই বৃদ্ধা দুই মেয়ে এবং এক ছেলেকে নিয়ে চালিয়ে যান জীবন সংসার। বিয়ে দিয়েছেন বড় মেয়ে ফাতেমা এবং মেজো মেয়ে মাবিয়াকে। বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তেমন একটা খোঁজখবর রাখেন না কেউই।

তবে কাছে রয়েছেন একটি ছেলে আব্দুল গনি (৩৮)। তাকেও বিয়ে করিয়েছেন অনেক আগেই। তবে নিরাশ করেনি ছেলে, বৃদ্ধা মাকে নিজের সংসারে রেখে কখনো রিকশা কখনো ভ্যানগাড়ি কখনো দিনমুজুরের কাজ করে সংসারের খরচ চালান তিনি। তবে আব্দুল গনির রয়েছে নিজের একটি সংসার। রয়েছে একটি ছেলে একটি মেয়ে এবং তার স্ত্রী। এখন আব্দুল গনির বয়স ৩৮ আগের মত এখন কাজ করতে পারেন না। ছেলে মেয়েদের নিয়ে পুরনো একটি ছোট্ট দু’চালার ঘরে সবাই এক সাথে বসবাস করেন। অনেক কষ্টের মধ্যেই দিন পার করেন তারা। গত (৩০মে) বিকালে দেখা যায় প্রচুর বৃষ্টির মধ্যে ভাঙা টিনের ঘরে বসে মাথায় পলিথিন বেধেঁ ঘরে এক কোনায় বসে রয়েছেন বৃদ্ধা হালিমা। ৮০ বছরের এই বৃদ্ধা এভাবেই মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বর্তমানে বৃদ্ধা হালিমা সরকারের দেয়া বয়স্ক ভাতার টাকা এবং অন্যের সাহায্য সহযোগীতা নিয়ে ছেলের সংসারে যোগান দিয়ে

দিন জীবনযাপন করছেন। অশ্রুশিক্ত চোখে বৃদ্ধা হালিমা বেওয়া সাংবাদিকদের জানান, ভোটের সময় ভোট চাইতে আসে সবাই। ভোট হয়ে গেলে কেউ আসে না আর। একটি ঘরের জন্য মেম্বার চেয়ারম্যানকে কয়েকবার বলেছি কোন গুরুত্ব দেয়নি। আবার ইউএনও অফিসে আমার কাগজ পএ দিয়েছি। কোন কিছুই হয়নি। আমার চেয়ে ভাল চলে তারা পায় সরকারী ঘর অথচ আমার ভাগ্যে জোটেনি শেখের বেটির দেওয়া সরকারী ঘর। নিজের জায়গা জমির মধ্যে বাস্তভিটা ৪ শতক জমি রয়েছে।স্বামীকে নিয়ে ছিলাম ছোনের ঘরে, স্বামী মরার পর থাকি ভাঙ্গা টিনের ঘরে। বৃষ্টি এলেই ঝমঝম করে পানি পড়ে বিছানা ভিজে যায়। এসব দেখার জন্য আমার আর কেউ নেই। স্থানীয়রা জানান, অসহায় ওই বৃদ্ধার ভালো একটি ঘর নেই। থাকেন ভাংঙ্গা টিনের ঘরে। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ওই বৃদ্ধার একটি সরকারী ঘর পাওয়া উচিৎ বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

এ ব্যাপারে পোগলদিঘা ইউপি চেয়ারম্যান সামস্ধসঢ়; উদ্দিন বলেন, জমি আছে ঘর নেই এমন অসহায় দরিদ্র ব্যক্তিকে অবশ্যই ঘর পাবেন। তবে এখন ক-শ্রেণী, ভূমি নেই ঘর নেই এমন অসহায় মানুষদের সরকারী নিয়মে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ২শতাংশ জমি বরাদ্দ এবং ঘর দেওয়া হচ্ছে। খ-শ্রেণীর বরাদ্দ ভূমি আছে গৃহ নেই, সেটা এখনও সরকার বরাদ্দ দেয়নি। তবে জুন-জুলাই বরাদ্দ আসতে পারে। বরাদ্দ আসলে সে ঘর পাবে।জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস

মন্তব্য করুণ