মোঃ মিজানুর রহমান : সাড়ে পাঁচলক্ষাধিক এমপিওভূক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের প্রাণের দাবি জাতীয়করণ। শিক্ষা ক্ষেত্রে বিরাজমান পাহাড়সম বৈষম্য নিরসনে শিক্ষা জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। তাই এমপ্রিভূক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের প্রত্যাশা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন লালিত স্বপ্ন শোষণ ও বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার মুজিববর্ষেই শিক্ষা জাতীয়করণ ঘোষণা দেবে। ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটকে ঘিরে দাবিটি আরও জোড়ালো হয়ে উঠেছে। কিন্তু আসন্ন বাজেটে জাতীয়করণের কোন ঈঙ্গিত না থাকায় বেসরকারি শিক্ষকরা বেশ হতাশ হয়েছেন। কিন্তু আমি মনে করি হতাশার কোন কারণ নেই। বাজেটে থাক বা না থাক শিক্ষা জাতীয়করণে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতাই যথেষ্ট। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক হলে সহসাই জাতীয়করণের ঐতিহাসিক ঘোষণা আসতে পারে।

সুপ্রিয় শিক্ষক বন্ধুরা, যিনি ৩০ হাজার কোটি টাকা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করতে পারেন, যিনি এক লক্ষ চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রূপপুর পারমানিক কেন্দ্র নির্মাণ করতে পারেন, যিনি ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার ভরণ পোষণ করতে পারেন, যিনি এলিভেটেট এক্সপ্রেস ওয়ে, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল বানাতে পারেন, যিনি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট স্থাপন করতে পারেন, যিনি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করতে পারেন, তিনি শিক্ষা জাতীয়করণ করবেন না এ কথা আদৌ বিশ্বাসযোগ্য নয়। আমার দৃঢ়বিশ্বাস সুযোগ ও সময়ের অপেক্ষা।

ইতমধ্যেই যিনি বিশ্ববরেণ্য চিন্তাবিদ ও পরিকল্পনাকারীর তকমা অর্জন করেছেন, যাঁর সুচিন্তিত দিক নির্দেশনা ও পরিচালনায় বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে, মধ্যম আয়ের দেশ এবং বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল, যার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ করোনা মহামারি মোকাবিলায় সফলতার দ্বারপ্রান্তে, তিনি আর যাই হোক শিক্ষাক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে শিক্ষা জাতীয়করণ করবেন না, একথা আমি ঘুর্ণাক্ষরেও বিশ্বাস করি না।

সুপ্রিয় শিক্ষক বন্ধুরা আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, তাহলে তিনি এ মহতি উদ্যোগটি আজও নিচ্ছেন না কেন? সামান্য ক’টা টাকা ব্যয়ে যা সম্ভব তা হচ্ছে না কোন যুক্তিতে? এ ধারণা অমূলক নয় এবং প্রশ্নটিও অত্যন্ত যৌক্তিক। এ বিষয়ে আমি আপনাদের কাছে বিনয়ের সাথে জানতে চাই বাংলাদরশের কোন শিক্ষক সংগঠন বা নেতৃবন্দ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট একান্তভাবে বা আনুষ্ঠানিকভাবে এ দাবিটি উত্থাপন করেছ কিনা? শিশু না কাঁদলে আপন মাও তো দুধ দেয় না। বিচ্ছিন্নভাবে দাবি করে এতবড় অর্জন আদৌ সম্ভব নয়। কেননা এর সাথে রাষ্ট্রীয় পলিসি সম্পৃক্ত। তাই বৃহৎ ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা দরকার। আর শিক্ষকদেরকে অবশ্যই দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে যেন প্রধানমন্ত্রী তথা গোটা দেশবাসীর নজরে পরে। অন্যথা আমরা যে তিমিরে ছিলাম বা আছি সে তিমিরেই রয়ে যাব।

মন্তব্য করুণ