ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে কয়রায় বড়দিন উদযাপন দেশসেবা দেশসেবা ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: ৫:২৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৬, ২০২৪ অরবিন্দ কুমার ।।কয়রায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের যীশু খ্রিস্টের জন্মদিন উপলক্ষে বড়দিন উদযাপন হচ্ছে।খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘ক্রিসমাস’ বা ‘বড়দিন’। বড়দিন হলো মহামতি যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন। রোমান ক্যাথলিকদের মতানুসারে, ২হাজার ১৯বছর পূর্বের এই দিনেই জেরুজালেমের বেথলেহেম শহরের এক গরীব কাঠুরের গোয়ালঘরে কুমারী মাতা মেরির গর্ভে জন্ম হয় শিশু যিশুর। সেই থেকেই দিনটিকে ‘বড়দিন’ হিসেব আখ্যায়িত করা হয়। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কাছে দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ দিনটিকে তারা যিশুখ্রিস্টের জন্মদিবস হিসেবে উদযাপন করে থাকেন। এ জন্যই তারা এই দিনটিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন বা বড়দিন মনে করেন।সাধারণভাবে খ্রিস্টান সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বিশ্বাস করে এই দিনেই যিশুখ্রিস্টের জন্ম হয়েছিল। এই উপলক্ষে ২৫ ডিসেম্বর তারিখটিকে যিশুর জন্মজয়ন্তী হিসেবে পালন করা হয়। তবে এখনও যিশুখ্রিস্টের ঐতিহাসিক সত্যতা সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে আদিযুগীয় খ্রিস্টানদের বিশ্বাস এই দিনে যিশুখ্রিস্ট মাতা মেরির গর্ভে প্রবেশ করেছিলেন। ২৫ ডিসেম্বর দিনটি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নামে পরিচিত হওয়ার পেছনে রয়েছে এই নামগুলোর শব্দগত ব্যুৎপত্তি। বেথেল গ্রিক বর্ণমালা এবং একাডেমির বাংলা অভিধানে ‘বড়দিন’-এর উল্লেখ পাওয়া যায়। এ ছাড়াও দিনটির ইতিহাস সম্পর্কে জানাতে এর ভৌগোলিক ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে গ্রন্থটিতে। অভিধানটির তথ্য অনুসারে, যিশুখ্রিস্টের জন্মমাস বলেই পুরো মাসকে ‘খ্রিস্টমাস’ বলা হয়। সেখান থেকেই এসেছে খ্রিস্টের মাস। তবে এখানে মাস শব্দের শাব্দিক অর্থ হিসেবে উৎসব বোঝানো হয়েছে। সেই থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এই দিনটি ‘এক্স মাস’ নামেও পরিচিতি পায়। ইতিহাস কিংবা শব্দগত ব্যুৎপত্তি যাই হোক না কেন কোনো উৎসবের প্রকৃত প্রাণ লুকিয়ে থাকে সেই উৎসবটির উদযাপনের মধ্যে।এই দিনটিকে ‘বড়দিন’ আখ্যায়িত করার পেছনে ভৌগোলিক ব্যাখ্যাও রয়েছে। উত্তর গোলার্ধে দক্ষিণ অয়নান্ত দিবস হিসেবে বড়দিনকে দেখা হয়। অর্থাৎ ২৩ ডিসেম্বর থেকে দিন বড় হতে থাকে এবং অন্যদিকে রাত হতে থাকে ছোট। তাই ২৫ ডিসেম্বরকে ‘বড়দিন’ বলে আখ্যা দেন দার্শনিকরা। দার্শনিকদের মতে, মর্যাদার দিক থেকে এটি একটি ‘বড়দিন’। তাই এই নামকরণে যুক্তিও আছে।শুরুতে “ইস্টার সান ডে” ছিল খ্রিস্টানদের একমাত্র ছুটির দিন। যিশুর জন্মদিন সে সময় উদযাপন করা হতো না। চতুর্থ শতাব্দীতে গির্জার কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেন যিশুর জন্মদিনও ছুটির দিন হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রকৃতপক্ষে যিশুখ্রিস্টের জন্ম কবে হয়েছিল সে কথা কেউই জানে না। কোথাও লেখাও নেই তার জন্মদিনের কথা। এমনকি বাইবেলেও যিশুর জন্মদিনের কোনো উল্লেখ নেই। তবে কিছু প্রমাণ এটাই ইঙ্গিত দেয়, বসন্তে জন্মেছিলেন যিশু (নয়তো শীতের মাঝামাঝি সময়ে মেষপালকরা পশু লালন-পালন করবে কেন?)। এসব প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ৩৫০ খ্রিস্টাব্দে রোমের বিশপ পোপ প্রথম জুলিয়াস ২৫ ডিসেম্বরকে যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন হিসেবে ঘোষণা করেন। তখন থেকেই এই দিনটি ‘বড়দিন বা ক্রিসমাস ডে’ হিসেবে উদযাপন হয়ে আসছে। শুরুতে যিশুর জন্মদিনের নাম দেওয়া হয় ‘ফিস্ট অব দ্য ন্যাটিভিটি’, যা ৪৩২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মিসরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষে ইংল্যান্ডে পৌঁছায়।বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘বড়দিন’ একই দিনে পালন হলেও রাশিয়া, জর্জিয়া, মিসর, আর্মেনিয়া, ইউক্রেন ও সার্বিয়ার মতো কয়েকটি দেশে এই উৎসব পালিত হয় ৭ জানুয়ারি। জুলিয়ান বা জর্জিয়ান ক্যালেন্ডারের হিসাব মেনেই এসব দেশে উৎসবটি পালিত হয়। শুধু তাই নয়, আর্মেনিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারীরা ৬ জানুয়ারি ‘বড়দিন’ পালন করেন। ‘বড়দিন’ পালন নিয়ে তাই অনেক মতভেদ রয়েছে। স্থান-কাল-পাত্রভেদে নানা মতভেদ থাকলেও ২৫ ডিসেম্ববরেই উৎসবটি মহাসমারোহে পালিত হয় বিশ্বজুড়ে। এই দিনে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠে সবাই।বড়দিনে ‘ক্রিসমাস’ ট্রি সাজানোর রেওয়াজ হাজার বছরের পুরোনো। ক্রিসমাস ট্রি বলতে আমরা যা বুঝি, তার প্রচলন জার্মানরাই প্রথম শুরু করেন। ষষ্ঠদশ শতাব্দীতে যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন উপলক্ষে জার্মানির ধর্মপ্রাণ খ্রিস্টানরা তাদের ঘর সাজানোর জন্য গাছ সংগ্রহ করতেন। উত্তর ইউরোপে সে আমলে ফারগাছ বা চেরিগাছকে আলো দিয়ে সাজানো হতো। ক্রমান্বয়ে এই রীতি ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। আজকাল আমাদের দেশের খ্রিস্টানরাও বড়দিনে আলোয় আলোয় সাজিয়ে তোলেন ক্রিসমাস ট্রি।ধারণা করা হয়, ওই শতাব্দীর জার্মানির ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক, যাজক ও প্রটেস্ট্যান্ট সংস্কারক মার্টিন লুথার প্রথম বড়দিনের গাছে আলোকিত মোমবাতি যুক্ত করেন। শীতের এক সন্ধ্যায় ঘরে ফেরার সময় চিরসবুজ গাছের ফাঁক দিয়ে আকাশে জ্বলজ্বলে তারার দীপ্তি মুগ্ধ ও বিস্মিত করে তাকে। পরিবারকেও এই স্বর্গীয় অনুভূতির স্বাদ দিতে ঘরের ড্রয়িং রুমে একটি গাছ নিয়ে আসেন মার্টিন লুথার আর তার শাখা-প্রশাখায় আলোকিত মোমবাতি ঝুলিয়ে দেন।আমাদী ক্যাথলিক চার্চের মাষ্টার সোহেল হালদার বলেন, কয়রা উপজেলায় ছোট- বড় দিয়ে মোট ১৪টি গীর্জায় ২৫ ডিসেম্বর উপলক্ষ্যে বড়দিন উদযাপন হচ্ছে। বড়দিন উদযাপনের জন্য গীর্জা প্রতি সরকারী অনুদান বাবদ হাফ টন করে চাউল পেয়েছেন। যার নগদ টাকা মূল্যে আঠারো (১৮,০০০/=) হাজার টাকা।বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান যুব ঐক্য পরিষদের কয়রা উপজেলা সভাপতি শিক্ষক অরবিন্দ কুমার মণ্ডল বলেন, বাংলাদেশ সহ বিশ্বে প্রায় দুই শত(২০০) দেশে খ্রীষ্ট ধর্মাবলম্বীরা বড়দিন উদযাপন করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় সারা দেশের ন্যায় কয়রা উপজেলাতেও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা যীশু খ্রিস্টের জন্মদিন উপলক্ষে বড়দিন উদযাপন করছেন। SHARES সারা বাংলা বিষয়: