জনসম্মুখে ধরল, পরে ছাড়ল-ডিবির আচরণে প্রশ্ন

দেশসেবা দেশসেবা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৫:০৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০২৫

 নাজমুলহুদা।।

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় চোরাচালানবিরোধী অভিযানে গিয়ে ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে উৎকোচের বিনিময়ে আসামি ও মালামাল ছেড়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় জনমনে বিরাজ করছে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা।
২৬ নভেম্বর বুধবার গভীর রাতে বরুয়াকোনা বাজারে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় কম্বলের বড় চালানসহ এক চোরাকারবারিকে আটক করলেও- অভিযোগ রয়েছে, পরে দায়সারা ভাবে কয়েকটি কম্বল রেখে বাকি কম্বল ও ওই ব্যক্তিকে ‘গোপনে’ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় হাট-বাজারে, চায়ের দোকানে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনা ডিবি পুলিশের এসআই ইকবাল-এর নেতৃত্বে একটি টিম বরুয়াকোনা বাজারের হাজী বস্ত্রালয় থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কম্বল জব্দ করে এবং দোকান মালিক মুনসুর আমিনকে জনসম্মুখে আটক করে নিয়ে যান।
সাবেক ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক বলেন- ডিবি পুলিশ দুটি অটো ইজিবাইক করে  মালামালসহ মুনসুর আমিনকে ধরে নিয়ে গেছে – এটা সবাই দেখেছে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ-এরপর ডিবি টিম উৎকোচ গ্রহণ করে চিনাহালা এলাকার নির্জন স্থানে গিয়ে আটক ব্যক্তি ও মালামাল  ছেড়ে দেয়।
রংছাতি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের প্রশ্ন-
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যখন চোরাকারবারিদের রক্ষা করে, তখন সাধারণ মানুষের আস্থা কোথায় যাবে?
সীমান্তসংলগ্ন এ এলাকায় প্রতিদিনই ভারতীয় পণ্য ঢুকে আসছে। বিজিবি থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের চোরাচালান নিয়ে জনমনে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ রয়েছে।
বিজিবি বরুয়াকোনা বিওপির দায়িত্বে থাকা নায়েক সুবেদার আব্দুল্লাহ বলেন- আমি বিওপিতে নতুন জয়েন করেছি। তিনি আরও মন্তব্য করতে চাননি।
দোকান মালিক মুনসুর আমিন-এর মোবাইল নম্বর ০১৭১৪-৭৪৭৫২৫–এ একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি। ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে দোকানের পরিচালক সুমন সরকার জানান – সেদিন রাতে অনেকগুলো ভারতীয় কম্বলসহ মালিককে আটক করে নিয়ে যান। এরপর আর কিছু জানি না। এ কথা বলেই তিনি ফোন কেটে দেন।
ডিবি পুলিশের এসআই ইকবাল-এর নম্বর ০১৫১৫-২৮৮৬১২–এ একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
রোববার (৩০ নভেম্বর) উপজেলা আইনশৃঙ্খলা ও চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির মাসিক সভায় বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাইযুল ওয়াসীমা নাহাত। সভায় উপস্থিত ছিলেন- সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান, ক্যাপ্টেন আবির ইসলাম, থানার এসআই ফেরদৌস, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও বিভাগীয় কর্মকর্তারা।
রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল বলেন- ওই চোরাকারবারিকে দ্রুত গ্রেফতার করে
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ডিবি পুলিশের এসআই ইকবালসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
সম্প্রতি কলমাকান্দায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী গণমানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরই মধ্যে ডিবির আচরণ স্থানীয়দের মনে নতুন প্রশ্ন তুলেছে- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব কি সত্যিই অপরাধ দমন, নাকি অন্য কিছু?
সাধারণ মানুষের মতে- কিছু পুলিশ সদস্যের নৈতিকতার উন্নয়ন হয়নি। তাই জনগণ আস্থাহীন, ক্ষুব্ধ-এটাই বাস্তবতা। তাদের দাবি- ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে, নইলে মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে।
এবিষয়ে নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামের সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।