ভূরুঙ্গামারীতে পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধার নামে ঋণ–জমি আত্মসাৎ ও মারধরের অভিযোগ দেশসেবা দেশসেবা ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: ৪:৩৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫ মোঃ রেজাউল ইসলাম কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম ভাঙিয়ে ব্যাংক ঋণের টাকা আত্মসাৎ, জমি লিখে নেওয়া এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নায়েব আলী ভূরুঙ্গামারী থানাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগে জানা যায়, মোঃ নায়েব আলী (পিতা-মৃত ইমান আলী), সাং—উত্তর ছাট গোপালপুর, ইউনিয়ন—শিলখুড়ি, থানা—ভূরুঙ্গামারী, জেলা—কুড়িগ্রাম। অভিযোগে তিনি জানান, তার দূর সম্পর্কের আত্মীয় মোছাঃ বিজলী বেগম (৪০), স্বামী—মোঃ শাহিন আলমসহ মোট পাঁচজন ও অজ্ঞাত আরও ৫–৭ জন দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা ও সন্তান না থাকায় বিজলী বেগম তাকে ‘মামা’ বলে সম্বোধন করে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। একপর্যায়ে তার বসতঘর না থাকার সুযোগে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ব্যাংক/অফিস থেকে তার নামে ১২ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ওই অর্থ দিয়ে তার নামে জমি কেনা ও সরকারি বরাদ্দে ঘর করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মাত্র ৫ শতক জমি কেনা হয় এবং বাকি ৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। দলিল পর্যালোচনায় দেখা যায়, জমির মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ২ লাখ টাকা। পরবর্তীতে সেই জমি আবার মাত্র ৮০ হাজার টাকা মূল্য দেখিয়ে বিজলী বেগম নিজের নামে লিখে নেন। সরকারি বরাদ্দে ঘর পাওয়ার সুযোগ এলে নিজের নামে জমি না থাকায় নায়েব আলী ঘর থেকেও বঞ্চিত হন। জমি ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, বিজলী বেগম ভুক্তভোগীর ব্যাংক চেকবইয়ের পাতায় জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে কয়েক বছর ধরে মুক্তিযোদ্ধা ভাতার অর্থ তুলে আত্মসাৎ করে আসছেন। স্থানীয় এলাকাবাসী মান্নান, কাচু দেওয়ানি ও আমজাদ জানান, জমি ও ভাতার টাকা আত্মসাৎ ও মানসিক নির্যাতনের কারণে নায়েব আলী স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে পঙ্গু হয়ে পড়েছেন। তার কোনো স্ত্রী–সন্তান না থাকায় প্রতিবন্ধী মোছাঃ আম্বিয়া বেগমকে বিয়ে দিয়ে তার দেখাশোনার ব্যবস্থা করা হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে স্ত্রী মোছাঃ আম্বিয়া বেগম ও সাক্ষীদের নিয়ে তিনি ওই জমিতে বসতঘর নির্মাণ করতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা ও জখম হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিজলী বেগম তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ রয়েছে, অভিযুক্তরা তার জমির সুপারি গাছ কেটে নিয়ে যায়, এতে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালেও কোনো সমাধান না পেয়ে ভুক্তভোগী বর্তমানে চরম অবহেলা, অনাহার ও কষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঘটনার সাক্ষী হিসেবে মোঃ করিম মিয়া, মোঃ হাসেন আলী, মোঃ হাবিবর রহমান ও মোছাঃ আয়সা বেগমসহ অনেকেই ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে অবগত বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিজলীর স্বামী শাহিন মেম্বার দাবি করেন, নায়েব আলীর দেখাশোনার সুবিধার্থে জমি তার স্ত্রীর নামে লিখে দেওয়া হয়। তার দাবি, পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে সাব কবলা করা হয়েছে এবং সে সময় নায়েব আলী সুস্থ ছিলেন। তবে দলিলে জমির মূল্য ৮০ হাজার টাকা উল্লেখ থাকায় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি আরও দাবি করেন, জমিতে তিনি ৫০–৬০টি সুপারি গাছ রোপণসহ কংক্রিটের খুঁটি ও প্লাস্টিকের নেট দিয়ে বেড়া দেন, পরে দুর্বৃত্তরা গাছ তুলে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা নায়েব আলীর কাছে জমি বিক্রি বা লিখে দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি মাথা নেড়ে ‘না’ জানান। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর স্ত্রী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। SHARES সারা বাংলা বিষয়: