শারদীয় দূর্গোৎসব হবিগঞ্জ এ ৬৬১ মন্ডপ প্রস্তূত

দেশসেবা দেশসেবা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১:৪১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৫
সারোয়ার নেওয়াজ শামীম  ।। বাংলাদেশ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য হবিগঞ্জ জেলায় ইতোমধ্যে ৬৬১ টি মন্ডপ প্রস্তুত করা হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী তিথি দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২৯ সেপ্টেম্বর মহাসপ্তমী পূজার মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আচার-অনুষ্ঠান। ১ অক্টোবর মহা অষ্টমী এবং ২ অক্টোবর মহানবমী পূজা। ৩ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে দেবী বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সব চেয়ে বড় উৎসব শারদীয়  দুর্গোৎসব।
পূজাকে কেন্দ্র করে সারাদেশের মতো হবিগঞ্জেও পূজারি ও ভক্তের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। গতবছর ৬৪৩ টি মন্ডপে দুর্গোৎসব হলেও এবার তা বেড়ে দাড়িয়েছে ৬৬১ টিতে। পূজারিদের বিশ্বাস অসুর বিনাশী দেবী দুর্গার আগমনে অশুভ শক্তির বিনাশ সাধন হয়ে শান্তি বিরাজ করবে মর্ত্যে।
হবিগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে- জেলায় এবার পূজা মন্ডপের সংখ্যা ৬৬১টি। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় এবং পৌরসভার মধ্যে সদর উপজেলায় ৪১, হবিগঞ্জ পৌরসভায় ৩৬, শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলায় ১৯টি। আজমিরীগঞ্জে ৩৫, মাধবপুরে ১১৫, চুনারুঘাটে ৮৫, নবীগঞ্জে ৯৩, লাখাই উপজেলা ৬৬, বাহুবল উপজেলা ৫২ এবং বানিয়াচং উপজেলার ১১৯ টি মন্ডপে সাড়ম্বরে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
সদর উপজেলার গঙ্গানগর গ্রামের বাসিন্দা সমীরণ চক্রবর্তী শংকু বলেন, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে এইবারের দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও যথেষ্ট আন্তরিক। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা আমরা কামনা করি।
চুনারুঘাট উপজেলার জাজিউতা গ্রামের বাসিন্দা সুমন রায় জানান, দুর্গাপূজা হলো হিন্দু দেবী দুর্গার উদ্দেশ্যে পালিত একটি বার্ষিক উৎসব, যা অসুরকে বধ করার মাধ্যমে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক। এটি বাঙালি হিন্দুদের প্রধান উৎসব ও পূজা। এই উৎসবটি শিল্পকলা, সামাজিক অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় আচারের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। এবারের দুর্গাপূজা সফল করতে সকলের কন্ট্রিবিউশন প্রয়োজন।
পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এড. নলিনী কান্ত রায় নিরু জানান, প্রতিটি মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষের পথে। তারপরও বাকি কাজ শেষ করার জন্য দিনরাত কাজ করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। মন্ডপ সাজসজ্জার কাজ শেষ করলেই উৎসবের আমেজে মেতে উঠবেন সবাই। পূজাকে কেন্দ্র করে হিন্দু ধর্মাবলম্বী সব পূজারি ও ভক্তের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সুন্দরভাবে মন্ডপের কাজ করতে পেরেছি। প্রত্যেক মন্ডপে স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এবারের দুর্গোৎসব কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছি।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন পুজামন্ডপ ও মন্দির পরিদর্শন করেছেন তিনি। এসময় মন্দির কমিটি ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দসহ সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের সাথে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। নির্ভিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে জেলা জুড়ে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।