আদালতে মিথ্যা প্রতিবেদন,সিংগাইরে নায়েবের বিরুদ্ধে ইউএনও বরাবর অভিযোগ দেশসেবা দেশসেবা ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: ৬:২৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০২৫ রিপন মিয়া জমি সংক্রান্ত বিরোধে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার(নায়েব) বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারা মামলায় আর্থিক সুবিধা নিয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত নায়েব মোঃ আবু তাহের মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত। তিনি পার্শ্ববর্তী জয়মন্টপ ইউনিয়নের পূর্ব ভাকুম গ্রামের রমিজ উদ্দিন ওরফে মিয়াজান বেপারীর ছেলে। অপরদিকে, ভুক্তভোগী ধল্লা ইউনিয়নের গাজিন্দা গ্রামের বশির উদ্দিন মোল্লার ছেলে হাসেম মোল্লা। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে প্রকাশ, ২০০৬ সালে ওই ইউনিয়নের গাজিন্দা মৌজায় হাসেম মোল্লা ৬ শতাংশ জমি ক্রয় করে ভোগ দখল করা অবস্থায় নামজারি করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে তিনি তার স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন ও ছেলে আনোয়ার হোসেনকে হেবার ঘোষণাপত্রে দলিল করে দেন। অন্যদিকে, ওই দুই দাগে জনৈক সোহানুর রহমান সুমন ও রাহেলা খাতুন ৪.১০ শতাংশ জমি সাফকবলা দলিল করে ভোগ দখল করছেন। ওই জমির মালিকানা দাবি করে একই গ্রামের মৃত শেখ কলাই ওরফে কানাই শেখের ছেলে এখলাছ উদ্দিন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারায় পিটিশন মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সরেজমিন দখল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) আদেশ দেন। সেই অনুযায়ী ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত)মো. আবু তাহের সরেজমিন তদন্ত না করেই এখলাছ উদ্দিনের কাছ থেকে মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা নিয়ে মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই জমিতে পিটিশন মামলার বাদী এখলাছ উদ্দিনের কখনোই দখল ছিল না বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ভুক্তভোগী হাসেম মোল্লা জানান, দুই দাগে মোট ১০.১০ শতাংশ জায়গার মধ্যে আমি ৪ শতাংশে পাকা বাড়ি ও দুই শতাংশের মধ্যে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছি। অন্যদিকে, জনৈক সুমন ৪.১০ শতাংশ ভোগ দখল করছেন। অথচ নায়েব আবু তাহের এখলাছ উদ্দিনের পক্ষে দখল দেখিয়ে তার কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। নায়েবের এ মিথ্যা প্রতিবেদনে মামলার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন হাসেম মোল্লা। তাই তিনি পুনরায় অন্য কাউকে দিয়ে সরেজমিন তদন্ত করিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জোর দাবি জানিয়েছেন। অভিযুক্ত ধল্লা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত)মো.আবু তাহের বলেন, কেউ মনগড়া অভিযোগ দিলে আমার কি করার আছে। আপনারা কাছাকাছি এসে খোঁজ খবর নিয়ে দেখেন । এদিকে, স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নায়েব আবু তাহেরের বাড়ি ধল্লা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কাছাকাছি পূর্ব ভাকুম গ্রামে হওয়ায় তিনি একটি দালাল সিন্ডিকেট করে তুলেছেন। ওই চক্রটির মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। ইতিপূর্বে বাস্তা গ্রামের মাওলানা ইসমাইল হোসেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছিলেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে মিমাংসা হওয়ায় অভিযোগ তুলে নেন তিনি। এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুন্নাহার বলেন,অভিযোগ হাতে পেয়ে তদন্তের জন্য দেয়া হয়েছে। সত্য প্রমানিত হলে নায়েবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। SHARES সারা বাংলা বিষয়: