প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ফসলী জমি কেটে রাতের আঁধারে এবং দিনে ভাটায় মাঠে বিক্রি

দেশসেবা দেশসেবা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৫:২৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৬, ২০২৪

মোঃ মাহিদুল ইসলাম ।। চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিবগঞ্জ উপজেলা আইন অমান্য করে ফসলী জমি কাটার মহোৎসব চলছে। জমির উর্বর টপ সয়েল বা উপরিভাগ কেটে নষ্ট করা হচ্ছে জমি নষ্ট করা হচ্ছে। এমনকি এসব জমি রাতের অন্ধকারে এবং দিনের বেলায় নিয়ে গিয়ে ভরাট করা হচ্ছে পুকুর।আর ভাটাই বিক্রি করছে যা সম্পূর্ণ ভাবে ভাবে বেআইনি। স্থানীয় প্রশাসন কালেভদ্রে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলেও বন্ধ হয়না অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পুকুর ভরাটের এবং মাটি বিক্রি মহাযজ্ঞ।জানা যায়, গত দুই সপ্তাহ ধরে শিবগঞ্জ উপজেলা মোবারকপুর এবং চক কিত্তি ইউনিয়নের এই সব এলাকায় ফসলী জমির টপ সয়েল বা মাটি কাটছে মাটিখেকোরা। সন্ধ্যা নামলেই এসব মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে উপজেলা যে কোন স্থানে ভাটা সহ শহরের ভূতপুকুর এলাকায় থাকা বিশাল পুকুর ভরাট করতে। ২৫-৩০ টি ট্রাক্টরে করে এসব মাটি পরিবহন করতে গিয়ে নষ্ট করছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং এলজিইডির পিচঢালা রাস্তা।এছাড়াও সড়কের উপর পড়ে থাকা মাটিতে শীত ও বৃষ্টি পড়ে তৈরি হয় কাদা। ফলে যানবাহন চলাচলেও দেখা দেয় সমস্যা। হরহামেশায় ঘটে সড়ক দূর্ঘটনা। ধুলাবালির জ্বালায় অতিষ্ঠ সড়কের পাশে থাকা বাসিন্দা ও দোকানদাররা। তাদের দাবি, দ্রুত বন্ধ করা হোক এমন অবৈধ কর্মকান্ড। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর এবং চক কীর্তি ফসলী জমি কাটার নেতৃত্ব দিচ্ছেন জুয়েল এবং লিটন নামের এক ভূমিদস্যু। এই মাটি নিয়ে এসে পুকুর ভরাট করেন আরেক ভূমিদস্যু নজরুল । জানা যায়, এসব পুকুর ভরাট করে প্লট আকারে বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ফসলী জমি কাটার অপরাধে গত পরশুদিন (২০ডিসেম্বর)এসিল্যান্ড এসে কাজ বন্ধ করে দেন আবার ২৩ তারিখ সন্ধ্যা হওয়ার পর থেকে আবার রাতের অন্ধকারে মাটি কাটা শুরু করে বন্ধ হয়নি মাটি কাটা ও সেই মাটি দিয়ে পুকুর ভরাট। এনিয়ে ভূমিদস্যু জুয়েল বলেন, বন্ধ করলে কি করবো এর আগেও বন্ধ করেছিল কিন্তু আমাদের কাজ চলমান থাকে। প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এসব করতে হয়।পুকুর ভরাটের মূলহোতা ভূমিদস্যু জুয়েল এবং লিটন বলেন, বন্ধু করলেও কিছু করার নাই। এভাবেই কাজ চালিয়ে যেতে হয়। ফসলী জমির টপ সয়েল কাটা ও পুকুর ভরাট বেআইনি, তা জানেন কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রশাসন অভিযান করে বন্ধ করে দিল ও আমরা গাড়ি চালিয়েছি। উপজেলা মোবারকপুর ইউনিয়ন এবং চক কিত্তি ইউনিয়ন এতো বড় কাজ এমনি এমনি কি আর হয়? সব পক্ষকে ম্যানেজ করেই করতে হয়।উত্তরাধিকার সূত্রে পুকুরের অন্যতম অংশীদার মো. জুয়েল রানা জানান বা পুকুর ভরাট আইনানুগ কি না তা আমার জানা নেই। তবে আমরা মোঃ শফিকুল ইসলাম বাইনামা করে দিয়েছি, সে ভরাট করে বিক্রি করে টাকা দিবে।স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা জানান, প্রকাশ‍্যে এসব ফসলি জমির মাটি কাটার কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছে একশ্রেণির প্রভাবশালী মহল। ফসলি জমির মাটি কেটে ভরাট করছে পুকুর, ডোবা-নালাসহ বিভিন্ন জলাশয়। এভাবেই তিন ফসলি জমির বুক চিরে ছুটে চলছে মাটি ভরাট করা ট্রাক্টর। বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন ফসলী জমিতে এখন চলছে মাটিকাটার মহাৎসব। তিন ফসলি কৃষি জমি পরিনত হচ্ছে পতিত ভূমিতে। এতে দিন দিন ফসলের উৎপাদন কমছে, বেকার হচ্ছে কৃষক, পরিবেশ হচ্ছে দূষিতফতেপুর এলাকার মোঃ সাত্তার হোসেন জানান, বিস্তীর্ণ ফসলি জমির মাঝখান থেকে অত্যাধুনিক ভেকু মেশিন দিয়ে জমির মাটি কাটার কর্মযজ্ঞ। যেই জমির উপরিভাগে ধান বোনা হতো, সে জমিতে এখন বিশাল আকারের সারি সারি গর্ত। এছাড়াও মাটি পরিবহনে ভারী ট্রাক, ট্রাক্টর ব্যবহারে গ্রামীণ সড়ক হচ্ছে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। আইন অমান্য করে এমনি কর্মকাণ্ড চলছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন জায়গায়।শফিকুল এবং নজরুল নামের এক উদ্যোক্তা বলেন, অতি লোভে পড়ে আবাদি জমির উপরিভাগের মাটি বিক্রি করছেন একশ্রেণির জমির মালিক। খনিজ ও জৈব উপাদান বিশেষ করে হিউমাস (জৈব কণা) সমৃদ্ধ মাটির ওই অংশ তুলে ফেলার কারণে জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাচ্ছে। কৃষিবিদরা জানিয়েছেন, এর ফলে কয়েক বছর ওইসব জমিতে ফসলের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন হবে না। ফসলি জমির মাটি দিয়ে পুকুর, জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে। এসব আইনের লঙ্ঘন।১৯৮৯ সালের ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধিত ২০০১) অনুযায়ী, কৃষিজমির টপ সয়েল বা উপরিভাগের মাটি কেটে শ্রেণি পরিবর্তন করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এসব কাজে জড়িত ব্যক্তিদের দুই লাখ টাকার জরিমানা ও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। পুনরায় কাজটি করলে ১০ লাখ টাকা জরিমানা আর ১০ বছরের কারাদণ্ড।ব্যক্তি মালিকানাধীন হিসেবে রেকর্ড করা পুকুরগুলো জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ এর ২ (চ) ধারায় প্রাকৃতিক জলাধারের সংজ্ঞাভুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। পরিবেশ আইন-১৯৯৫ ও জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ এর বিধান অনুসারে যেকোন জলাশয় ভরাট নিষিদ্ধ এবং ব্যক্তিগত পুকুর হলেও তা জলাধারের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তা ভরাট করা যাবে না।