বেরোবির ছয় তরুণের ‘উত্তরণ’, রংপুরে বস্তিবাসীর জন্য আশার আলো

দেশসেবা দেশসেবা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৩:৫৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৫

 

 

আবু রায়হান তামীম।।

রংপুর শহরের ব্যস্ততার মাঝেই লুকিয়ে আছে অনেক নীরব যুদ্ধের গল্প। শান্তিবাগ, লালবাগ রেললাইনের পাশের ঝুপড়িঘরে দিন কাটে অসংখ্য পরিবারের। দারিদ্র্যের ভারে অনেক স্বপ্ন থেমে গেছে, কারও কণ্ঠস্বর চাপা পড়েছে সংগ্রামের শব্দে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুন্দর জীবনের উষ্ণতা সবই যেন তাদের কাছে অচেনা। এই কঠিন বাস্তবতার ভেতরেই ছয়জন তরুণ-তরুণী বদল আনার স্বপ্ন নিয়ে গড়ে তুলেছেন প্রজেক্ট ‘উত্তরণ’। তাদের লক্ষ্য একটাই,জীবনের প্রান্তে ঠেলে দেওয়া জলবায়ু অভিবাসী ও শহরের প্রান্তিক মানুষদের আত্মনির্ভরতার পথে দাঁড় করানো। তারা বিশ্বাস করেন, প্রতিটি মানুষের ভেতরেই লুকিয়ে আছে অদেখা সম্ভাবনা, যা সঠিক সুযোগ পেলে উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারে। শান্তিবাগ বস্তিতে কাজ শুরু করতেই তারা দেখলেন,অনেক নারী ছোটখাটো হস্তশিল্প জানেন। কেউ কাঁচের চুড়ি সাজাতে পারেন, কেউ পুরোনো জিনিস দিয়ে কিছু বানাতে পারেন। অথচ এই দক্ষতাগুলো কখনো জীবিকার পথে কাজে লাগেনি। তখনই উত্তরণের ভাবনা “এই হাতগুলোই আশার প্রদীপ জ্বালাতে পারে।” তারা নারীদের হাতে-কলমে শিখালেন কিভাবে পুরোনো জিনিসকে নতুন রূপ দেওয়া যায় নারিকেলের খোল থেকে গহনা ও শো পিস, পুনর্ব্যবহারযোগ্য কাগজ থেকে টব ও সাজসজ্জা,হাতে তৈরি চুড়ি ও সেলাই করা চাদরসহ আরও অনেক জিনিস  । এ সকল কারুকার্যে ফুটে ওঠে নারীদের সৃজনশীলতা ও ভালোবাসা। কেবল তৈরি করাই নয়, উত্তরণ নারীদের পাশে দাঁড়ায় বাজারজাতকরণেও। স্থানীয় মেলায় স্টল, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং ফেসবুক পেজের মাধ্যমে তাদের তৈরি জিনিস পৌঁছে যায় মানুষের হাতে। গ্রাহক চাইলে নিজের পছন্দমতো নকশাও দিতে পারেন, আর নারীরা বানিয়ে দেন একেবারে ব্যক্তিগত ছোঁয়ায় অনন্য শিল্পকর্ম। প্রতিটি বিক্রির অর্থ সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয় নারীদের হাতে। এর ফলে শুধু আর্থিক নিরাপত্তা নয়, বরং তাদের ভেতরে ফিরে আসে আত্মবিশ্বাস। তারা এখন শুধু নিজের পরিবার নয়, সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। উত্তরণ আসলে একটি সেতু,যেখানে হতাশার অন্ধকার থেকে মানুষ হেঁটে যায় আশার আলোর পথে। সংগ্রামকে রূপ দেওয়া হয় শক্তিতে, স্বপ্নকে রূপ দেওয়া হয় বাস্তবে। নামের মতোই, উত্তরণ প্রতিটি মানুষকে তুলে ধরে মর্যাদাপূর্ণ জীবনের পথে,যেখানে দারিদ্র্য আর অবহেলা নয়, বরং আত্মবিশ্বাস আর সম্মানই হবে তাদের আসল পরিচয়। এই কাজগুলো করছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় তরুণ ও তরুণী তারা হলেন,মোঃ আশিকুর রহমান, মোছাঃ মাইশা মাস্তুরা,মোছাঃ নওশিন তাবাসসুম,মোঃ আসাদুজ্জামান রিয়াজ,সায়াদা মাসুমা মিম, মোঃ সাব্বির আহমেদ।
ছয় তরুণের এই উদ্যোগ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, যে ছোট ছোট প্রচেষ্টা কিভাবে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। দারিদ্র্য ও সীমাবদ্ধতা কখনোই স্বপ্নকে থামাতে পারবে না।