শেরপুরে ভারি বর্ষণে ফসলি জমিতে পানি, বিপাকে কৃষক

দেশসেবা দেশসেবা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৬:৩৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০২৫
মোঃ মুরাদ মিয়া।।
গত তিন দিনের টানা ভারি বর্ষণে শেরপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাত থেকে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় আমন ধান নুয়ে পড়েছে এবং নিচু এলাকার জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।
এতে জেলার হাজার হাজার কৃষক পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। বিশেষ করে শেরপুর সদরের চরাঞ্চলের নিচু এলাকা এখন বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত।
কৃষকরা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে টানা বৃষ্টি হওয়ায় পাকা ও অর্ধপাকা আমন ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসল পানির নিচে চলে গেছে। অনেক জায়গায় ধানের শীষ পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মাঠের ফসল ঘরে তোলার আগেই এমন বর্ষণে তারা হতাশ।
লতারিয়া গ্রামের কৃষক ওয়াহেদ আলী বলেন, “ধান কাটার উপযুক্ত সময় ছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে মাঠে নামতে পারছি না। অনেক জমির ধান একেবারে পানির নিচে ডুবে গেছে। এবার ক্ষতির মুখে পড়লাম।”
কামারেরচর গ্রামের কৃষক আঃ জলিল জানান, “আমরা সারা বছর পরিশ্রম করে ধান ফলাই, কিন্তু এই বৃষ্টিতে সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরকার যদি সহায়তা না করে তাহলে আমরা বড় বিপদে পড়ব।”
অন্যদিকে, শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছে, ভারি বর্ষণে এখন পর্যন্ত জেলার প্রায় কয়েক হাজার হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ চলছে। আমরা ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তথ্য সংগ্রহ করছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বেশ কিছু এলাকায় পাকা ও আধাপাকা ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী এক-দুই দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে জলাবদ্ধতা আরও কিছুটা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, বৃষ্টির পানি নামার ব্যবস্থা না থাকায় অনেক এলাকায় গ্রামীণ সড়ক ও খাল-বিলেও পানি জমে আছে, এতে চলাচলেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
স্থানীয় কৃষক সমাজের আশা—দ্রুত আবহাওয়া অনুকূলে ফিরবে এবং সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার ব্যবস্থা নেবে।