গুরুদাসপুরে অবশেষে অনশনের পর প্রবাসীর স্ত্রীর স্বীকৃতি, ইউএনওর ন্যায়বিচারে সমাধান দেশসেবা দেশসেবা ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: ১২:৪৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০২৫ পারভেজ তালুকদার।। নাটোরের গুরুদাসপুরে অনশন ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পর অবশেষে স্বামীর স্বীকৃতি পেলেন প্রবাসী স্বামী ওয়াজেদ আলীর স্ত্রী তাসলিমা খাতুন (শাবনুর)। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজের ন্যায়সংগত হস্তক্ষেপে শান্তিপূর্ণ সমাধান হয় এ দাম্পত্য সংকটের। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার যোগীন্দ্র নগর গ্রামের জিহাদ আলীর ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী ওয়াজেদ আলী (৩০) এক বছর আগে একই গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেকের মেয়ে তাসলিমা খাতুন শাবনুরকে গোপনে বিয়ে করেন। বিয়ের পর ওয়াজেদ আলী প্রতিশ্রুতি দেন দেশে ফিরে ধুমধাম করে সামাজিকভাবে বিয়ে অনুষ্ঠান করে স্ত্রীর মর্যাদা দেবেন। তবে পরবর্তীতে বিদেশে যাওয়ার পর তিনি ও তার পরিবার মোটা অঙ্কের যৌতুক দাবি করেন। ওয়াজেদ আলী দ্রুত অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার অজুহাতে ১০ লাখ টাকা এবং শ্বশুর জিহাদ আলী ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যৌতুক না দেওয়ায় কনে তাসলিমা খাতুন শাবনুরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বর ও তার পরিবার। পরে শাবনুর স্বামীর বাড়িতে গেলে শ্বশুর তাকে মারধরের চেষ্টা করেন এবং বাড়ি থেকে বের করে দেন। এক পর্যায়ে গেটের সামনে বসে অনশন শুরু করেন তিনি। বিষয়টি আমার সংবাদের অনলাইনের মাধ্যমে প্রচারিত হলে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য রেজাউল করিম বাদী হয়ে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ উভয় পক্ষকে তলব করেন। কাবিননামা যাচাই করে বিয়ের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি দুই পরিবারের উপস্থিতিতে তাসলিমা খাতুন (শাবনূর)কে স্বামীর স্বীকৃতি প্রদান করেন এবং শশুর জিহাদ আলীর হাতে পুত্রবধুকে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। মানবিক এ সমাধানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসী জানান, ইউএনওর বিচক্ষণ ভূমিকার কারণে একটি পরিবার ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।# SHARES সারা বাংলা বিষয়: