কোটালীপাড়ার ঘাগর নদীর মোহনায় বাঁধ

দেশসেবা দেশসেবা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৩:২৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৫

শেখ ফরিদ আহমেদ।।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারাদেশের মতো গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়াতেও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তবে কোটালীপাড়ার হিরণ ইউনিয়নের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে শঙ্কা। কারণ, ঘাঘর নদীর মোহনায় দেওয়া বাঁধ এখনো অপসারণ না হওয়ায় প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ১৫ কোটি ৪৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা ব্যয়ে পয়সারহাট-গোপালগঞ্জ খাল খনন প্রকল্পের কাজ শুরু হয় গত বছরের ১ আগস্ট। এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত বগুড়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান খান লিমিটেড খাল খননের লক্ষ্যে প্রায় এক বছর আগে ঘাঘর নদীর মোহনায় বাঁধ দেয়। তবে বর্ষা মৌসুমের কারণে বর্তমানে খননকাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে বাঁধটি অপসারণ না হওয়ায় নদীপথে যাতায়াত সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে।
তারাশী কর্মকারবাড়ি সর্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপের সভাপতি গোশাই কর্মকার বলেন,
“প্রতি বছর বিজয়া দশমীর দিন আমরা নৌকাযোগে প্রতিমা ঘাঘর নদীতে নিয়ে যাই। সারাদিনের আনন্দ-উৎসব শেষে সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জন দিই। কিন্তু এ বছর বাঁধ থাকায় নৌকায় প্রতিমা আনা-নেওয়া সম্ভব হবে না। এতে আমরা সবাই দুশ্চিন্তায় আছি।”
ঘাঘর বাজারের ব্যবসায়ী রনজিত কুমার সাহা জানান,“প্রতিমা বিসর্জনে বাঁধ সমস্যা সমাধানের দাবিতে আমরা ১০০ জন স্বাক্ষরযুক্ত আবেদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর জমা দিয়েছি। কিন্তু এখনো কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে আমরা উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।”
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন,“পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই বাঁধটি অপসারণ করা হবে, যাতে দুর্গাপূজায় প্রতিমা বিসর্জনে কোন প্রতিবন্ধকতা না থাকে।” স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত বাঁধ অপসারণ না হলে দুর্গাপূজার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব—বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জন—বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।