সিংগাইরে চিবিয়ে খাওয়া আখের বাম্পার উৎপাদন

দেশসেবা দেশসেবা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৫

রিপন মিয়া ।। মানিকগঞ্জের সিংগাইরে চলছে আখ কাটার ভরা মৌসুম। মাঠে মাঠে সবুজ সারি, কৃষকের পদচারণা, কোথাও চলছে আখ কাটার ব্যস্ততা, কোথাও বা আঁটি বেঁধে বাজারজাতের প্রস্তুতি। এ বছর অনুকূল আবহাওয়া ও দোআঁশ মাটির কারণে উৎপাদন ভালো হয়েছে। ফলে বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকলেও চাষিরা অভিযোগ করছেন—মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে তারা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

চাষিদের প্রত্যাশা, ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হলে সিংগাইরের আখ চাষ আরও জনপ্রিয় হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর সিংগাইরে ২৮০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে যা গত বছরের সমান। তবে উৎপাদন অন্যান্য বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। চলতি মৌসুমে প্রায় ২৭ কোটি ২০ লক্ষ টাকার আখ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বায়রা ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি আখ চাষ হয়েছে। এছাড়া বলধারা, জামশা, চারিগ্রাম, তালেবপুর ও সিংগাইর সদর ইউনিয়নের কিছু কিছু এলাকায়ও আখের চাষ হয়েছে।

সিংগাইরে সাধারণত রংবিলাস, গেন্ডারি, সুইং, বোম্বে, কুশুল, চানপুরা, নলঠেঙ্গা ও সাতাইশসহ নানা জাতের আখ উৎপাদন ভালো হয়। চাষিদের দাবি উৎপাদন ভালো হলেও খরচের সঙ্গে মুনাফা তুলনা করলে প্রকৃত লাভ ঘরে তোলা যাচ্ছে না। শ্রম, বীজ, সার ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের কষ্টের ফল ভোগ করছে মূলত ব্যবসায়ী ও পাইকাররা।

বায়রা ইউনিয়নের গারাদিয়া গ্রামের আখচাষি সাদুল্লাহ জানান, “এ বছর আমি ৭ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। বিঘাপ্রতি ৫০-৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে এক বিঘা আখ এক লাখ থেকে এক লাখ বিশ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবুও ঢাকার বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় জমি থেকেই পাইকাররা কিনে নিচ্ছে। এতে অনেকে আখ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।”

চাষি মোজাম্মেল হক বলেন, “আখ চাষে লাভ আছে, কিন্তু অনেক সময় আমরা সঠিক দাম থেকে বঞ্চিত হই। বাজারে যদি সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকতো তবে কৃষকেরা অনেকটা স্বস্তি পেতেন।”

অনেক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, মাঠ থেকে প্রতি পিছ আখ ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হলেও ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে দাম দাঁড়াচ্ছে ৭০-৮০ টাকা যেটা খুবই দুঃখজনক।

সদাগর নামে আরেক চাষি জানান, “বীজ, সার ও কীটনাশকের দাম বেশি। সরকার যদি এগুলোর দাম কমাতো তবে উৎপাদনও বাড়তো, লাভও বেশি হতো।”

এদিকে আখ ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেনের দাবি, তারা মাঠ থেকে আখ কিনে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠান। পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বাদে সামান্য লাভ করতে পারেন।

শ্রমিকদের কথায়ও ফুটে উঠেছে ব্যস্ততার চিত্র। আখ কাটার শ্রমিক শহীদুল্লাহ, আবুল মোল্লা, রমজান আলী ও বাদল জানান, “আমরা ১৬ জন মিলে প্রতিদিন প্রায় আট হাজার আখ কেটে বাজারে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করি। প্রতি হাজার আখ কাটায় ২২-২৫ শত টাকা মজুরি পাই। এতে প্রতিজনের গড়ে ৮-৯ শত টাকা আয় হয়।”

সিংগাইর উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ হাবিবুল বাশার চৌধুরী বলেন,“আখ চাষে চাষিদের আরো অধিকতর পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া বাংলাদেশ আখ গবেষণা ইন্সটিটিউটের উদ্ভাবিত নতুন জাত কৃষকের মাঝে সম্প্রসারণে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সর্বাত্নক সহযোগিতা থাকবে।