মনোহরদীতে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে ছাই লেবুতলার ধরাবান্ধা দিঘীরপাড় গ্রামের কাজল মিয়ার বসতঘর। দেশসেবা দেশসেবা ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: ৬:৪৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০২৫ মো হিমেল মিয়া। নরসিংদীর মনোহরদী থানার লেবুতলা ইউনিয়নের ধরাবান্ধা দিঘীরপাড় গ্রামে গভীর রাতে ঘটেছে এক রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ড। গত ১১ তারিখ দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে গ্রামের বাসিন্দা কাজল মিয়ার বসতঘরে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো ঘরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘরের ভেতরের সব মালামালসহ বসতবাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগুন লাগার সময় ঘরটি বাইরে থেকে বন্ধ ছিল এবং আশেপাশে আগুন লাগার মতো কোনো উৎস পাওয়া যায়নি। ফলে এলাকাবাসী বিষয়টিকে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ হিসেবে সন্দেহ করছেন। আগুনের লেলিহান শিখায় ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, নথিপত্র, পোশাক, গৃহস্থালী সামগ্রী এবং পরিবারের জীবিকার একমাত্র ভরসা মুদির দোকানের সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছেন কাজল মিয়া। প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনে ছুটে এসে পানি ও বালতি নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। বহু চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও ততক্ষণে বসতঘরটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে পড়ে। ঘটনার সময় ঘরে থাকা কোনো জিনিসপত্রই আর রক্ষা করা যায়নি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে কাজল মিয়া বলেন, “এক রাতের আগুনে আমার সব শেষ হয়ে গেল। আমার ঘর, আমার দোকান—সব পুড়ে ছাই হয়ে গেল। এখন আমি সম্পূর্ণ নিঃস্ব।” এলাকাবাসী জানান, কাজল মিয়া একজন সহজ-সরল ও পরিশ্রমী মানুষ। তার ছোট মুদির দোকান ছিল পরিবারের জীবিকার একমাত্র উৎস। এই অগ্নিকাণ্ডের পর পরিবারটি সম্পূর্ণভাবে অসহায় হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনা সম্পর্কে মনোহরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কাজল মিয়া। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনার কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। কাজল মিয়া ও তার পরিবারের আশা—আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে এই রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কারা আছে তা প্রকাশ করবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি আবার ঘুরে দাঁড়াতে সরকারি ও স্থানীয় সহায়তা পাওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। SHARES সারা বাংলা বিষয়: